বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার জয়ের আভাস

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৩৯

সাহস ডেস্ক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। প্রশংসা করা হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের এক দশকের শাসনে অর্জিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতির।

রবিবারের (৩০ ডিসেম্বর) নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত বিভিন্ন বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে জোরালো আভাস দেওয়া হয়েছে। ওইসব প্রতিবেদনে সরকারের দুই মেয়াদের শাসনে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উঠে এসেছে। এর বিপরীতে সমালোচনা করা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ, বাক স্বাধীনতা সীমিতকরণ ও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্রমশ বেড়েছে। আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন কোম্পানি।

ভিয়েলটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ডেভিড হাসানাতের বরাত দিয়ে ওই সংবাদমাধ্যম বলছে, দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতিতে সাহায্য করছে। অর্থনীতির উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক খাতে চাঙাভাব  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসাকে বেগবান করতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো থাকলেও, দেশটির সরকার বিরোধীদের দমন-পীড়নের অভিযোগে সমালোচিত হচ্ছে। নির্বাচনে হারলে শাসক দলের অনেকেরই বিরোধীদের দমন পীড়নের শিকার হওয়ার ভীতি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। কন্ট্রোল রিস্ক নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহযোগী পরিচালক প্রত্যুষ রাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তার জন্য এটি অস্তিত্বের যুদ্ধ।’

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময়ে প্রপাগান্ডা ঠেকাতে ইন্টারনেটের গতি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শুক্রবার বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) থ্রি জি ও ফোর জি সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্থাটির এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, প্রপাগান্ডা এবং বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রত্যাখাত হয়ে বিএনপি ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে।

মার্কিন ব্যবসায়িক সাময়িকী ফোর্বস এই নির্বাচনকে ‘টিকে থাকার লড়াই’ আখ্যা দিয়ে লিখেছে, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ ৬ শতাংশের বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। ফলে ২০০৯ সালের ১০ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতি দশ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০১৮ সালে ২৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে উন্নিত হয়েছে। জাপান, চীন ও ভারতের কোম্পানিগুলোও এসব অগ্রগতির ভাগ পাচ্ছে। 
ওই বাণিজ্য সাময়িকী বলছে, বিগত কয়েক বছরে বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তার এবং কারাবন্দি করার মধ্যদিয়ে বিরোধীদের ওপর অভিযান জোরালো করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও দণ্ড ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছে তারা। নেতৃত্ব সংকটের কারণে বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে মিলে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে। এই জোটের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করা বর্ষীয়ান আইনজীবী ড. কামাল হোসেন।

সিএনএন-এর খবরে শেখ হাসিনার উন্নয়ননীতির প্রশংসা করা হলেও বাক স্বাধীনতা সীমিতকরণের সমালোচনা করা হয়েছে। গত নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপির অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এবার তারা নির্বাচনে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড নির্বাচনি প্রচারণার সহিংসতার প্রসঙ্গ সামনে এসে শেখ হাসিনার বিজয়ী হওয়ার আভাস দিয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে লৌহমানবী আখ্যা দিয়ে মার্কিন সাময়িকী টাইমস তার এক দশকের শাসনামলে অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির খবরকে সামনে এনেছে। তবে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার প্রসঙ্গও আলোচনায় এনেছে তারা।

‘শেখ হাসিনার দশ বছর: উন্নয়ন বিয়োগ গণতণ্ত্র’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা লিখেছে, ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে অনেক উদ্যোক্তা সরকারের প্রশংসা করলেও অবকাঠামো নির্মাণে ধীর গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে অনেক সমালোচকই বলে থাকেন বিগত দশকে বাংলাদেশে বৈষম্য বেড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল আল জাজিরাকে বলেছেন, সত্যি যে জিডিপি বেড়েছে। তবে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য উপাত্তের দিকে তাকালে দেখা যাবে বৈষম্য তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন ক্ষমতাসীন দল গণতন্ত্র বাদ দিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের খবরে প্রাধান্য পেয়েছে এবার যারা প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন তাদের প্রসঙ্গ। নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা থাকার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও তরুণরা তাদের কণ্ঠস্বরকে সামনে আনতে চায় ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের খবরে নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার খবর সামনে এনেছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের কয়েকটি বাড়িতে বৃহস্পতিবার আগুন দেওয়া হয়েছে বলে বলা হয়েছে ওই খবরে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি এনিয়ে নির্বাচন সামনে রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আগুন দেওয়ার তিনটি ঘটনা ঘটলো। সংবাদমাধ্যমটি র‍্যাব প্রধান বেনজির আহমেদকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা জাতির জন্য দুঃখজনক। তিনি দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করতে মানুষের সহায়তা চেয়েছেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর সামনে এনেছে শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার প্রসঙ্গ। হলি আর্টিজান হামলার দুই বছর অতিক্রান্ত পর বড় কোনও সন্ত্রাসী হামলা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রশংসা করা হয়েছে সরকারের সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতির। এদিকে ভারত সরকারের সংবাদ সেবা বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের রবিবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে  তিনজন কর্মকর্তাকে পাঠাবে দেশটি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত