পিরোজপুর সদর

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় শিরিনা আফরোজ

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:৪৬

‘যেকালে কোন সমস্যায় পড়ি হেই সময়ই মাইয়াডার কাছে দৌড়াইয়া যাই। আর হেও মোরে খালি আতে ফিরায় না। এইবার যদি উপজেলা নির্বাচনে হ্যারে এউক্কু ভোট দিতে পারি হেইলে মোনডায় একটু শান্তি পাইতাম।’ এভাবে কথাগুলো বলেছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের এক অসহায় নারী। আর যার সম্পর্কে বলেছিলেন তিনি পিরোজপুরের প্রিয় মুখ সাংবাদিক শিরিনা আফরোজ।

শিরিনা আফরোজ পিরোজপুরে একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত মুখ। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পিরোজপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে আলোচনায় চলে এসেছে তার নাম। পিরোজপুরে নারীর আরো ক্ষমতায়ন বা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে আগামীতে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান এলাকার নারীনেত্রীসহ সর্বস্তরের জনগণ।   

২০০৬ সাল থেকে আঞ্চলিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করার মধ্যে দিয়ে সাংবাদিকতায় পেশায় পথচলা শুরু করেন শিরিনা আফরোজ। এরপর ২০০৮ সালে একুশে টেলিভিশনের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি ও ২০০৯ সালে দৈনিক কালের কণ্ঠের পিরোজপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে আসছেন। করেছেন সাংবাদিকতায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে ডিপ্লোমা। সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বরিশাল মেইল নামে একটি অনলাইন সংবাদপত্রের।

এই পথচলায় সৎ আর সাহসী লেখনীর কারণে তাঁর উপর নেমে এসেছে ক্ষমতাসীন ব্যাক্তিদের খড়গ। ক্ষমতাসীনদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একের পর দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করে গেছেন লেখনীর মাধ্যেমে। শুধু তাই নয় তাঁর লেখনীতে উঠে এসেছে জীবনের জয়গান, মনবিকতা যেখানে তলানিতে পৌঁছেছে সেখান থেকে নতুন করে ঘুরে দাড়ানোর কথা।

শিরিনা আফরোজ এর ভাষায় শখের বসে সাংবাদিকতা শুরু করি যা নেশায় এবং পেশায় পরিনত হয়েছে। আগামীতে কাজ করে যেতে চাই বহুদূর। প্রতিটি অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে হাসি ফোটাতে চাই তাদের মুখে।

নেতৃত্ব দেওয়ার গুনাবলি সেই কলেজ জীবনের প্রথম দিন থেকেই। পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী নিবাসের নেতৃত্ব দেয় ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। তুখোড় এই তার্কিক কলেজ পর্যায় জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছেন। এছাড়া শৈশব থেকেই উপস্থাপনা, একক অভিনয়, কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগীতায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বহু পুরষ্কার অর্জন করেছেন।

২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব আর ২০০৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মহিলা পরিষদের পিরোজপুর জেলা শাখার আন্দোলন সম্পাদকের দায়িত্ব, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। শুধু তাই নয় পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন সহকর্মীদের। 

জেলা মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব শহর সমাজ সেবার সাংগঠনিক সম্পাদক ও অসহায় নারীদের জন্য কর্মসংস্থান ও সাবলম্বি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা সহ সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজের জন্য অর্জন করেছে বেগম সুফিয়া কামাল লিডারশিপ ফেলো।

কাউখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী নেত্রী রুহিয়া আক্তার হাসি বলেন, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলে সেই অর্থে কোন নারী নেত্রী তৈরী হয়নি। সাংবাদিক হিসেবে শিরিনা আফরোজ সেই জায়গার অনেকটাই পূরণ করেছে বলে আমার মনে হয়। 

প্রসঙ্গত আগামী মার্চে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এবারও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ধাপে ধাপে করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছয় বা সাত ধাপে ৪৯০ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত